জেগে থাকে
নদীর ধারে একাকী বসে অপেক্ষা করছে তিস্তা। অয়ন কে সে আজ প্রথম আর শেষ বারের মত আসতে বলেছে।যদিও কাগজে বিকাল ৫ টায় আসার কথা লিখেছিল কিন্তু এখন প্রায় ৬:৩০ বেজে গেছে।
সূর্য টা দূরে নদীর কিনারে এখন অর্ধেকের বেশি ডুবে গেছে। নদীর এ দিকটায় ঘন বাঁশের বন। তারই একপাশ দিয়ে ছোট্টো একটা সরু পথ গেছে গ্রাম্য-শহরটায়। বছর দুই হলো প্রত্যন্ত গ্রাম টাতে লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। এসেছে নেটওয়ার্ক, তৈরি হয়েছে ছোটো দুটো কারখানা। এতেই গ্রাম টা নব্য শহরে পরিণত হয়েছে। এখন প্রায় সব নবীন যুবক-যুবতীদের হাতে মোবাইল ফোন আছে। অনেকে সেটার যোগ্য ব্যবহারও শুরু করেছে। তবে যত দ্রুত এই গ্রামে আধুনিকতা আসুক না কেন , এখানকার মানুষ গুলোর মনে আধুনিক চিন্তা ভাবনা অতো তাড়াতাড়ি আসা সম্ভব নয়। Prrbook
Upworkmarket
postmaster
topguru
monstarpublic
usamarking
powerbank
cutly
Redifiv
bookstar
link Youtubbook>
tumblrro
Postmind
Probook
SocialMarking
Prrmarsub
Hastagcode
Wortweb
wwwsmbook
quora-answer
curred-add
wordpress-wo
classifiedsa
Top-Backlinks
Aliexpress
Twin-M
F-s-a-m-f
Gabsocialm
Temp Mail
তিস্তা ,নদীর পাড়ের জমিতে পা ছড়িয়ে বসে আছে আর মাঝে মধ্যে মুচকি মুচকি হাসছে। মনে মনে বলছে
--আর ছেলে পেলি না তিস্তা? এখানে এত সুন্দর সুন্দর ছেলে থাকতে তুই ঐ বখাটে অয়ন টাকেই ভালোবাসলি। যে কিনা তোকে কখনো ভালোভাবে দেখেছে কি না তারও ঠিক নেই।
*অয়ন পাড়ার বখাটে ছেলেদের দলের লিডার। উস্কখুস্ক বাউন্ডুলে অনাথ ছেলে। পড়াশোনা কাজকর্মের বালাই নেই। মামা-মামির ফাই ফরমান খাটে। রাস্তার ধারে রোয়াকে বসে আড্ডা মারে। মাঝে মধ্যে সিগা,রেট ও খায়।
তিস্তা ওদের ঐ আড্ডার রোয়াকের পাশ দিয়ে রোজ নবারুণ দার দুই মেয়েকে পড়াতে যায়। একজনের বয়স চার আর একজনের সাত। এখন তিস্তার সম্বল বলতে ঐ দুটো টিউশনি। ওর বাবা মারা গেছে আট বছর আগে। মা তার তিন মাসের মধ্যে আবার বিয়ে করে। বর্তমানে তার একটা পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আছে। নতুন বাবা বা বোন কেউ ওকে দেখতে পারে না এমনকি ওর নিজের গর্ভধারিণী মায়ের চোখেও ও এখন বিষাক্ত কাঁটা। এইযে এখন ও টিউশনি বাদ দিয়ে এইখানে বসে আছে একথা ওর মা জানতে পারলে ২০ বছরের মেয়ের গায়ে হাত তুলতে তিনি কিঞ্চিৎ চিন্তা ভাবনাও করবেন না। সন্ধ্যে হয়ে এসেছে। ঈশান কোনে ঘন কালো মেঘ দেখা দিয়েছে। কালবৈশাখী হবে বোধহয়। দেখতে দেখতে কয়েক মুহূর্তে পুরো আকাশ ঘন মেঘে ছেয়ে গেলো। নদীর উপর দিয়ে সাঁইসাঁই করে ছুটে আসছে ঝোড়ো হাওয়া।
হঠাৎ প্রকৃতি যেন উদ্দাম উন্মত্ততায় মেতে উঠলো। বাঁশ গাছ গুলো নুইয়ে পড়তে লাগলো একবার এপাশে, একবার ওপাশে। ঝড়ের দাপটে তিস্তার পিঠের উপর ছড়িয়ে থাকা চুল গুলোও এলোমেলো হয়ে উড়তে লাগলো। তিস্তা এমনিতে ঝড়-ঝঞ্ঝা-বাজ পড়া এসবে খুব ভয় পায়। কিন্তু কেন জানিনা আজ তার ভয় করছিল না একটুও। সে দিব্যি এই ঘোর অন্ধকারে বসে মুচকি মুচকি হাসছে।
বৃষ্টি নামলো মুষল ধারে। সেকেন্ডের মধ্যে তিস্তার সারা শরীর ভিজে চুইয়ে নামতে লাগলো জলের ধারা। এবার সে উঠে দাঁড়ালো। আকাশের দিকে মুখ তুলে ধরলো, বৃষ্টির জলের কারনে চোখ খুলতে পারছে না। উপরে দিকে এক হাত তুলে হাত নাড়িয়ে বললো
---আকাশ, তোরও কী আমার মতো মন তোলপাড় হচ্ছে না কি রে? জানিস এই রকম কালবৈশাখী আমার মধ্যেও চলছে তবে এতক্ষন তোর মতো মন খুলে কাঁদতে পারছিলাম না। এবার তোকে পেয়েছি, আয় দুজনে একসাথে কাঁদি।
হাঁটু মুড়ে ধপ করে বসে পড়লো তিস্তা। কাঁদতে লাগলো অঝর নয়নে। বৃষ্টির ফোঁটা সেই জল ধুইয়ে দিচ্ছে।
অন্যদিকে অয়ন....
--এতো বৃষ্টির মধ্যে মনে হয় না তিস্তা আর নদীর পাড়ে বসে থাকবে ও নিশ্চয়ই বাড়ি চলে গেছে। কী কারনে যে দেখা করতে বলেছিল কে জানে? আচ্ছা আমি তো রোয়াকেই বসে ছিলাম কই ওকে তো বাড়ি ফিরতে দেখলাম না!! তাহলে কি এখনও অপেক্ষা করছে?
দ্রুত দেয়ালে টানানো ছাতাটা নিয়ে বেড়িয়ে পড়লো অয়ন। সে বাড়ির সওদা করতে মুদির দোকানে গিয়েছিল আর সেখানে গিয়ে তিস্তা যে ওকে দেখা করতে বলেছিল সে কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে আড্ডা দিতে বসে গিয়েছিল। ঝড় ওঠার সময় হঠাৎ করে মনে পড়ে যায় তিস্তার চিরকুটের কথা। একপ্রকার ছুটে চলে আসে নদীর পাড়ে। ছাতা থাকার সত্বেও সারা শরীর ওর ভিজে গেছে।
তিস্তাকে ওভাবে বসে থাকতে দেখে অজানা কারনে অয়নের বুকটা মোচড় দিয়ে উঠলো।
--তিস্তা, ঐ এতো বৃষ্টির মধ্যে বসে আছিস কেন?
ঝড়ের সো সো শব্দে আর বৃষ্টির জেরে এক হাত দূরে দাড়ানো মানুষের কথাও কান অবধি পৌঁছাবে না। অগত্যা অয়ন তিস্তার পিছনে গিয়ে দাঁড়ায়। হঠাৎ বৃষ্টির ফোঁটা আর শরীরে পড়ছে না বুঝতে পেরে তিস্তা উপর দিকে তাকালো। চোখ গুলো পুরো রক্ত জবার মত লাল হয়ে গেছে। তিস্তা এমনিতে ফর্সাই, বৃষ্টির জলে ভেজার জন্য আরো বেশি ফর্সা লাগছে। জামাটা কাপটি খেয়ে লেপ্টে আছে শরীরের সাথে। নাকের ডগা আর ঠোঁট জোড়া লাল হয়ে ফুলে উঠেছে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে কান্না করছিলো। অয়ন কে দেখে বিদ্রুপ হাসি হেসে আবার সামনের দিকে তাকালো।বললো
--- চলে যাও, চলে যাও এখান থেকে
---বাড়ি চল্ তিস্তা
---আমি একা যেতে পারবো
---এতো অন্ধকারে ঝড় বৃষ্টির মধ্যে কেন বসে আছিস? তোর কি জীবনের মায়া নেই?
---মায়া বাড়ানোর মতো আছে ই কী আমার। সেই কবে থেকে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার জন্য বসে আছি, সে আর ধরা দিচ্ছে কই! তুমি চলে যাও এখান থেকে।
---তুই আমায় এখানে ডেকেছিলিস্।
---সেই সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে। এখন আর তোমার থাকার কোনো প্রয়োজন নেই।
---তুই যতক্ষন না বলছিস কেন ডেকেছিলিস্ আমি কোত্থাও যাবো না এখান থেকে।
---তাহলে থাকো। আমিও শেষ বৃষ্টিটা না হয় নিজের ভালোবাসার সাথেই ভিজে নিই।
কথাটা তিস্তা আসতেই বলেছিল তারপরও অয়ন সেটা শুনতে পায়। শুনেও না শোনার ভান করে বলে
--তুই পুরো ভিজে গেছিস্। তোর মা যদি জানতে পারে পড়াতে না গিয়ে এখানে বসে বসে ভিজছিস মেরে আধ,ম,রা করে দেবে তোকে।
মনে মনে অবক হলো তিস্তা ওর মা যে ওকে সহ্য করতে পারেনা সেটা অয়ন কীভাবে জানলো? এতে না জানার কী আছে গত বছর চরকে যখন তিস্তা না বলে চলে গিয়েছিল তখন ওর মা ওকে সবার সামনে দিয়ে জুতো পেটা করতে করতে বাড়ি এনে ছিল। সাথে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ বিনামূল্যে। তপ্ত এক দীর্ঘশ্বাস ফেললো তিস্তা। মুচকি হেসে অয়নের দিকে তাকিয়ে বললো
--আর তো একটা মাস, মেরে সাধ মিটিয়ে নিগ্। তার পর তো চিরদিনের মতো চলেই যাবো।
সামনে কোথাও একটা জোরে বাজ পড়লো। অয়নের ভিতরটাও কেমন যেন কেঁপে উঠলো। হাতটা আপনা থেকেই আলগা হয়ে ছাতাটা উড়ে গেল। ভিজতে লাগলো অয়নের সারা শরীর, ভিজে উঠলো চোখের পাতা। বৃষ্টির বর্ষনে না কী দুঃখের বর্ষনে কে জানে!!!
চলবে.....
গল্প--মন বৈশাখী
পর্ব--১
কলমে--পূজা,
গল্প সংক্রান্ত যেকোনো মন্তব্য করে যাবেন। আপনাদের ছোট্ট একটি মন্তব্য লেখিকার মনে নতুন আশার আলো জ্বালায়, নতুন প্রেরনা জোগায়। আমি একজন নবীন লেখিকা,তাই ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। ভালোবাসা অবিরাম পাঠকবৃন্দ।
Comments
Post a Comment